মার্কিন জিডিপিতে লাতিন অভিবাসীদের অবদান ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের অবদান রেখেছেন লাতিন অভিবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারের অবদান রেখেছেন লাতিন অভিবাসীরা। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদদের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, দেশটিতে লাতিন অভিবাসীদের ক্রয় ক্ষমতা পৌঁছেছে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির ফলে এ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবদান সামনে কমতে পারে। খবর সিএনবিসি।

গবেষণা অনুসারে মার্কিন জিডিপিতে ২০১৫-২৩ সালের মধ্যে লাতিনদের অবদান বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এটি সম্ভব করেছে শিক্ষা, উদ্যোক্তা সক্ষমতা ও শ্রমবাজারে তাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লাতিন নয় এমন জনগোষ্ঠীর জিডিপি অবদান বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

এমন একসময় প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধ অভিবাসীদের উৎখাতে নজিরবিহীন সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রতিবেদন বলছে, শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনীতিতে ২০২৩ সালে লাতিন আমেরিকানদের অবদান ছিল ৯৮৯ বিলিয়ন বা ৯৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার, যা চলতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে। টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্ক প্রতিটি অঞ্চলের জিডিপিতে তাদের অবদান কয়েক হাজার কোটি ডলারের বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন অর্থনীতিতে লাতিন আমেরিকানদের ব্যয় ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। দেশটিতে বেবি বুমারদের (১৯৪৬-৬৪ সালের মধ্যে যাদের জন্ম) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ব্যয় কমছে বার্ষিক প্রায় ৪ শতাংশ হারে। এ ব্যয় ব্যবধান পূরণে প্রস্তুত লাতিনরা, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ভোগ্যব্যয় বছরে ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে।

লাতিনদের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে অলাভজনক সংগঠন লাতিনো ডোনর কোলাবরেটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা সল ট্রুহিলো বলেন, ‘কর্মী, উদ্যোক্তা ও ভোক্তা হিসেবে মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখছে লাতিনরা।’

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘ভেলোসিটি’ অর্থনৈতিক সম্মেলনে সুমা ওয়েলথের সিইও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা বেট্রিজ আসেভেদো জানান, লাতিন আমেরিকানদের লক্ষ্য করে কিছু ব্র্যান্ড বিকশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতে এসব কোম্পানি এখন শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় বেশি কিছু ব্র্যান্ডের নামও উল্লেখ করেন তিনি। লাতিন জনগোষ্ঠীতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় গ্রাহক বৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে এসেছে টেলিকম কোম্পানি টি-মোবাইল। পেপসিকে পেছনে ফেলে কোমল পানীয়ের জন্য দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছে ড. পেপার। কারণ এক দশকে কোম্পানিটির লাতিন ভোক্তা দ্বিগুণ হয়েছে। নারীদের বাস্কেট বল টুর্নামেন্ট ডব্লিউএনবিএর দর্শকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধিতে অবদান রয়েছে এ জনগোষ্ঠীর। এছাড়া গত পাঁচ বছরে হিস্পানিক অঞ্চলে কিয়া ব্র্যান্ডের গাড়ির বিক্রি বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ, এতে ব্যাপক অবদান রয়েছে লাতিন অভিবাসীদের।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে বিশ্লেষক। এতে গুরুত্বপূর্ণ হিস্যা রয়েছে লাতিন আমেরিকানদের। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড্যানিস হফম্যান সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৩ লাখ অবৈধ শ্রমিক রয়েছে। তাদের উৎখাত করলে সম্মিলিতভাবে ১ কোটি ৯৫ লাখের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি করবে।

ড্যানিস হফম্যান বলেন, ‘আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। আমি সীমান্ত উন্মুক্ত করার বা নথিপত্র ছাড়া কাজ করার অনুমতি দেয়ার কথা বলছি না। কিন্তু আমাদের ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব।’

এ বিষয়ে তার যুক্তি হলো, ‘আমরা উৎপাদনশীল, পরিশ্রমী, অবৈধ শ্রমিকদের স্পন্সর করতে পারি। এতে ব্যাপক উৎখাতের মতো ক্ষতি এড়ানো যাবে।’

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ড্যানিস হফম্যান জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক হারে অভিবাসী উৎখাত করলে মার্কিন জিডিপি প্রায় ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কমতে পারে।

আরও